অন্ধ হতে না চাইলে আর্টিকেলটি আপনার জন্য

অন্ধ হতে চান না নিশ্চয়?

আজ প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ গোভন্দাপ্পা ভেঙ্কাটস্বামীর ১০০ তম জন্ম বার্ষিকী। কে এই ডাঃ ভেঙ্কটস্বামী? আজ থেকে বহু বছর আগে এই মানুষটার হাত ধরেই লক্ষ লক্ষ মানুষের চোখ আলোর সন্ধান পেয়েছিল, তাই তো আজ, মাত্র একদিন তিনি বিরাজ করছেন গুগল ডুডলে। কাল তিনি আবার ইতিবাস হয়ে যাবেন। সারা ভারতের মতো হয়তো ডাঃ ভেঙ্কাটস্বামীর জন্মস্থান যেখানে, অর্থাৎ মাদুরাইয়ের মানুরাও হয়তো তাঁকে ভুলে যাবেন। যেমনটা সবাই ভুল গেছেন তারা “মিশন”কে। তাই তো আজ এমন বিশেষ দিনে প্রশ্ন উঠছে চারিপাশে যে চোখের রোগ এবং অন্ধত্বের মতো সমস্যা দূরিকরণের ক্ষেত্রে ভারতের পরিস্থিতিতে কোনও পরিবর্তন এসেছে কি?

দুঃখের বিষয় ডাঃ ভেঙ্কাটস্বামী আজ থেকে বহু বছর আগে অন্ধত্বের বিরুদ্ধে যে জেহাদ শুরু করেছিল, তা আজ প্রায় অস্তমিত। কারণটা একটাই। তা হল চোখ নিয়ে সচেতনতার অভাব। তাই তো গত কয়েক দশকে ভারতীয়দের মধ্যে, যার সিংহভাগেই বয়স ৪০-এর কম, নানাবিধ চোখের রোগের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা তো আজ দশ জনের মধ্যে ৮ জনের। তবে এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতিটা কিন্তু আরও ভয়ঙ্কর। কারণ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে ২০১৭ সালে সারা বিশ্বে অন্ধ লোকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৭ মিলিয়ান, যার মধ্যে ১৫ মিলিয়ানেরই বাস আমাদের দেশে। তাই একথা বলা যেতেই পারে যে গুগল ডুডল আজ ডাঃ ভেঙ্কাটস্বামীর জন্মদিনকে যতই ধুমধাম করে উদযাপন করুক না কেন, মূল সমস্যাটা কিন্তু এখনও গোকুলে বাড়াছে। তাই সাবধান বন্ধু সাবধান! এখন প্রশ্ন হল এমন বিপদ থেকে সাবধান হবেন কীভাবে, কীভাবেই বা দৃষ্টিশক্তিকে চাঙ্গা রাখবেন? এক্ষেত্রে প্রথমেই ডায়েটের দিকে নজর দিতে হবে। অর্থাৎ বেশি করে খেতে হবে মাছের মতো ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার। সেই সঙ্গে এই প্রবন্ধে আলোচিত চোখের ব্যায়ামগুলিও যদি করতে পারেন, তাহলে চোখ নিয়ে যে আর কোনও চিন্তা থাকবে না, সে কতা হলফ করে বলা যেতে পারে! প্রসঙ্গত, যে যে চোখের ব্যায়ামগুলি নিয়মিত করলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না, সেগুলি হল…

১. জুমিং এক্সারসাইজ: এই ব্যায়ামটা যতটা মজার, ততটাই কার্যকরিও বটে। এক্ষেত্রে কারও লিফ্ট চাওয়ার সময় আমরা যেমন হাতের ভঙ্গি করে থাকি, অনেকটা তেমন করতে হবে। অর্থাৎ ডান হাতটা সামনের দিতে সোজা করে বুড়ো আঙুলটা ডান অথবা বাম দিতে একটু হেলিয়ে দিতে হবে। তারপর বুড়ো আঙুলের উপর ফোকাস করতে হবে। এইভাবে কিছুক্ষণ করার পর হাতটা মুখ থেকে ৩ ইঞ্চি দূরে নিয়ে আলতে হবে। কিছু সময় পরে পুনরায় হাতটা সোজা করে নিতে হবে এবং একেবারে শুরুর সময়ে যেমন করেছেন সেই ভাবে ফোকাস করতে হবে। এই পদ্ধতিটি মেনে নিয়মিত এই ব্যায়ামটা করলে দেখবেন দৃষ্টি শক্তি বাড়বে চোখে পরার মতো। সেই সঙ্গে নানাবিধ চোখের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যাবে কমে।

২. ঠান্ডা-গরম জলে সেক দিতে ভুলবেন না: একটা বাটিতে গরম জল আর আরেকটা বাটিতে ঠান্ডা জল নিয়ে নিন। তারপর একটা টাওয়াল গরম জলে ডুবিয়ে কিছু সময় চোখের উপর রাখুন। তরপর জল দিয়ে একই ভাবে চোখে সেক দিন। এমনটা কয়েক মিনিট করলে সারা দিন ধরে কাজ করতে করতে চোখের যে ক্ষতি হয়েছে, তা ঠিক হতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে কান্তি দূর হবে এবং দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটবে।

৩. বারে বারে চোখ পিটপিট করতেই হবে: বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে কম্পিউটার, মোবাইল বা যে কোনও ডিজিটাল স্ক্রিনে কাজ করার সময় আমাদের চোখের পাতা একেবারেই পরতে চায় না। ফলে চোখের উপর চাপ বাড়তে শুরু করে। সেই কারণেই তো যারা দিনের বেশিরভাগ সময় কম্পিউটারে কাজে করেন, তাদের কিছু সময় অন্তর অন্তর চোখ পিট পিট করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এমনটা করলে চোখের ক্লান্তি দূর তো হয়ই। সেই সঙ্গে চুলকানি এবং ড্রাই আইয়ের মতো সমস্যাও দূর হয়। এখন প্রশ্ন হল কতবার চোখ পিট পিট করতে হবে? চিকিৎসকেরা বলে থাকেন কম করে ৫ সেকেন্ড যদি এমনটা করা যায় তাহলে চোখের উপকার মেলে।

৪. ফোকাস শিফটিং এক্সারসাইজ করা জরুরি: চোখের পেশির ক্ষমতা বাড়াতে এই ব্যায়ামটি দারুন কাজে আসে। এক্ষেত্রে চোখের একেবারে সামনে যে বস্তুটি আছে তার দিকে তাকান। ৫ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকার পর তার থেকে একটু দূরে রয়েছে এমন কিছুর দিকে এক দৃষ্টিতে পুনরায় ৫ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এমনটা করতে থাকলে চোখের পেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আর এমনটা হলে স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টিশক্তিও বাড়তে শুরু করে।

৫. হাতের তালু দিয়ে চোখ ঢাকুন: খুব ব্যস্ত নাকি কম্পিউটারে। তাহলে বন্ধু একটু সময় বার করে কয়েক মিনিট হাতের তালুটা চোখের উপর রাখুন দেখি! তবে চোখের উপর চাপ দেবেন না যেন! এমনটা কয়েক মিনিট করে রাখলেই দেখবেন মন এবং চোখের স্ট্রেস কমতে থাকবে। সেই সঙ্গে চোখের ক্লান্তিও দূর হবে। আর চাখের ক্লান্তি দূর হলে কোনও ধরনের আই প্রবলেম হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমবে, তেমনি দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও আর থাকবে না।

138 total views, 3 views today

About Md Mukta Hasan Romzan 12 Articles
স্বাস্থ্য ই সম্পদ। আর এই সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্ব একান্তই ব্যক্তিগত। সুতরাং সঠিক উপায় জানানো আমাদের সকলের কর্তব্য।